সূরা আত-তারিক ৮৬:১২

سُورَةُ الطَّارِقِ · মাক্কী · আয়াত ১২/১৭

وَٱلْأَرْضِ ذَاتِ ٱلصَّدْعِ

অনুবাদ

এবং বিদারনশীল পৃথিবীর

বাংলা অনুবাদ: মুহিউদ্দীন খান।

অর্থ ও উপলব্ধি

শব্দশৈলী

সূরা তারিকের এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা শপথ করছেন পৃথিবীর একটি বিশেষ অবস্থা নিয়ে, যা আমাদের গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করার আমন্ত্রণ জানায়।

`صَدْعِ` (সাদ') এর অর্থ

আল্লাহ শপথ করেছেন, `وَٱلْأَرْضِ ذَاتِ ٱلصَّدْعِ` (ওয়াল আরদি যাত্বিস সাদ') অর্থাৎ "জমিনের শপথ, যা ফেটে যায়।" এখানে `الصدع` (আস-সাদ') শব্দটি এসেছে, যার সাধারণ অর্থ হলো ফেটে যাওয়া বা বিদীর্ণ হওয়া। আল-মুয়াসসার ও জালালাইন তাফসীরে এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মাটি ফেটে গিয়ে সেখান থেকে গাছপালা বের হয়ে আসা। ইবন আশুর (Ibn Ashur) বলেন, `الصدع` মূলত একটি ক্রিয়াপদ, যা এখানে কর্মবাচক বিশেষ্য (passive participle) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর দ্বারা সেই জিনিসকে বোঝানো হয় যা ফেটে বের হয়ে আসে, অর্থাৎ মাটি ফেটে যে উদ্ভিদ জন্মায়। এই শব্দচয়ন ইঙ্গিত দেয়, ভূমিকে কেবল চিড় ধরা একটি নিছক বস্তু হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং এটি একটি সক্রিয় সত্তা যা নতুন জীবনকে উন্মোচন করে।

অর্থের গভীরতা

এই শপথের গভীরে আমরা এক মহাজাগতিক পদ্ধতির সন্ধান পাই। ইমাম আল-রাজি (al-Razi) বলেছেন, আসমান (বৃষ্টির মাধ্যমে) যেন পিতা আর জমিন (যা ফেটে উদ্ভিদ জন্মায়) যেন মাতা, উভয়েই জীবনের উৎস। এই তুলনাটি প্রকৃতির মধ্যে এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক এবং জীবনচক্রের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে। `الصدع` এর মাধ্যমে মাটির বুক চিঁড়ে যখন নবীন চারা মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, তখন তা কেবল একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য থাকে না, বরং আল্লাহ তাআলার অসীম ক্ষমতা ও পুনরুজ্জীবিত করার নিদর্শনের এক জীবন্ত প্রমাণ হয়ে ওঠে। ইবন আশুর এও উল্লেখ করেছেন যে, এই শপথের মধ্যে পুনরুত্থানের দিকে একটি ইশারা আছে, ঠিক যেমন মৃতপ্রায় মাটি থেকে প্রাণের সঞ্চার হয়, তেমনি আল্লাহ মৃত মানুষকে আবার জীবন দান করতে সক্ষম।

আমাদের জন্য শিক্ষা

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা যে শপথ করেছেন, তার উদ্দেশ্য হলো কুরআনের সত্যতাকে প্রতিষ্ঠিত করা। যখন আমরা `الصدع` শব্দটি নিয়ে ভাবি, তখন আমাদের মনে পড়ে প্রকৃতির অবিরত রূপান্তরের কথা। প্রতিবার যখন কোনো বীজ মাটির গভীরে আশ্রয় নেয় এবং সময় হলে ফেটে বেরিয়ে আসে, তখন তা আল্লাহর এক অলৌকিক নিদর্শনের বার্তা বহন করে। এই শপথ আমাদেরকে শুধু প্রাকৃতিক বিষয়গুলো নিয়ে নয়, বরং আল্লাহর কালামের সত্যতা নিয়েও গভীরভাবে চিন্তা করতে উৎসাহিত করে। তিনি যেমন ভূমিকে জীবন দান করেন, তেমনি তাঁর কালামও আমাদের মৃতপ্রায় অন্তরকে সঞ্জীবিত করার ক্ষমতা রাখে, যা হক ও বাতিলের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্যকারী এক নির্ভুল বাণী।

সূত্র: al-Zamakhshari (al-Kashshaf), al-Jalalayn, al-Jadwal fi I'rab al-Quran (Mahmud Safi), Ibn Ashur (al-Tahrir wa al-Tanwir), al-Razi (Mafatih al-Ghayb)

যেসব বিষয়ে এই আয়াত আলোচিত

এই আয়াতটি Maani-র ১টি বিষয়ভিত্তিক স্টাডি গাইডে আলোচিত হয়েছে (গাইডগুলো ইংরেজিতে)।

কুরআনের সব বিষয় দেখুন

আয়াতটি নিয়ে চিন্তা করুন

Maani-তে আয়াতটি পাঁচটি লেন্সে ভাবুন: এর শব্দচয়ন, প্রেক্ষাপট, আপনার জীবনে এর অর্থ, কুরআনের অন্য আয়াতের সঙ্গে সংযোগ এবং এর শিক্ষা, ক্লাসিক তাফসীরের ভিত্তিতে।

Maani-তে এই আয়াত নিয়ে চিন্তা করুন