সূরা আন-নাজম ৫৩:১৩

سُورَةُ النَّجۡمِ · মাক্কী · আয়াত ১৩/৬২

وَلَقَدْ رَءَاهُ نَزْلَةً أُخْرَىٰ

অনুবাদ

নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল,

বাংলা অনুবাদ: মুহিউদ্দীন খান।

অর্থ ও উপলব্ধি

শব্দশৈলী

### এই আয়াতের প্রেক্ষাপট

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাদের সম্বোধন করছেন যারা নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর দেখা অলৌকিক বিষয়গুলো অস্বীকার করছিল। আল্লাহ সরাসরি কথা বলছেন এবং দৃঢ়ভাবে নবীজির رؤيا (দৃষ্টি) কে সত্য বলে ঘোষণা করছেন। এই আয়াতটি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করছে যে নবীজি (সা.) যা দেখেছেন, তা সম্পূর্ণ বাস্তব ছিল, যা অবিশ্বাসীদের যুক্তিতর্কের ঊর্ধ্বে। এটি মূলত নবীর মর্যাদা ও তাঁর প্রাপ্ত ওহীর সত্যতাকে নিশ্চিত করে।

### শব্দচয়ন কী শেখায়?

`وَلَقَدْ رَءَاهُ` (ওয়া লাক্বাদ রআহু) – দৃঢ়তার ঘোষণা
এই আয়াতের সূচনা `وَلَقَدْ` (ওয়া লাক্বাদ) শব্দ দিয়ে হয়েছে, যা কোরআনের ভাষায় গভীর প্রত্যয় এবং জোর দিয়ে কোনো কিছু বলার জন্য ব্যবহৃত হয়। এখানে `وَ` (ওয়া) হলো একটি অব্যয় যা বক্তৃতাকে আরও শক্তিশালী করে, `لَ` (লা) একটি শপথবাচক বা নিশ্চয়তাজ্ঞাপক অক্ষর, আর `قد` (ক্বাদ) শব্দটি অতীতে সংঘটিত একটি ঘটনাকে নিশ্চিত করে। ইবন আশুর (Ibn Ashur) বলেছেন, এই ধরনের জোরালো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে কারণ এই খবরটি ছিল যথেষ্ট অভাবনীয় ও অস্বাভাবিক। এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে না যে, নবীজি (সা.) যা দেখেছেন তা নিঃসন্দেহে সত্য। `رَءَاهُ` (রআহু) অর্থ "তিনি তাকে দেখেছেন।" এখানে `هُ` সর্বনামটি হজরত জিবরাঈল (আ.)-কে নির্দেশ করছে, যেমনটি আল-মুয়াসসার (al-Muyassar) ও ইবন আশুর (Ibn Ashur) পরিষ্কার করেছেন। অর্থাৎ, নবীজি (সা.) জিবরাঈল (আ.)-কে দেখেছিলেন।

`نَزْلَةً أُخْرَىٰ` (নাজলাতান উখরা) – আরেকটি অবতরণ
`نزلة` (`nazlah`) শব্দটি এসেছে 'নুযুল' (অবতরণ) থেকে। এটি একটি `মাসদার মাররাহ` (`masdar marrah`), যার অর্থ "একবারের অবতরণ" বা "একটি বিশেষ মুহূর্তের অবতরণ"। মাহমুদ সাফি (Mahmud Safi) এটিকে ব্যাকরণগতভাবে `মাফউল মুতলাক` (`maf'ul mutlaq`) হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা এই অবতরণটির প্রকৃতি বা সংখ্যা বোঝায়। অর্থাৎ, এটি কেবল একটি সাধারণ দেখা ছিল না, বরং একটি নির্দিষ্ট এবং তাৎপর্যপূর্ণ অবতরণ ছিল। আর `أُخْرَىٰ` (উখরা) মানে "আরেকটি" বা "দ্বিতীয়বার"। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, এটিই প্রথমবার ছিল না যে নবীজি (সা.) জিবরাঈল (আ.)-কে তাঁর আসল রূপে দেখেছেন। পূর্বেও সূরা নাজমেরই শুরুর দিকে (আয়াত ৮-৯) একবার তাঁকে আসল রূপে দেখার কথা বলা হয়েছে। এই দ্বিতীয়বার দেখার ঘটনাটি ঘটেছিল মি'রাজের রাতে সিদরাতুল মুনতাহার কাছে, যা আল-মুয়াসসার (al-Muyassar) ও অন্য তাফসীরকাররা উল্লেখ করেছেন।

এই শব্দচয়নগুলো দিয়ে আল্লাহ কেবল একটি ঘটনা বর্ণনা করেননি, বরং তাঁর নবীর দেখা অলৌকিক ঘটনার সত্যতা ও গুরুত্বকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যেন অবিশ্বাসীদের আর কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ না থাকে। এটি এক বিশেষ সম্মান যা আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দা মুহাম্মদ (সা.)-কে দান করেছিলেন।

সূত্র: al-Zamakhshari (al-Kashshaf), al-Jadwal fi I'rab al-Quran (Mahmud Safi), al-Razi (Mafatih al-Ghayb), Ibn Ashur (al-Tahrir wa al-Tanwir), al-Jalalayn

যেসব বিষয়ে এই আয়াত আলোচিত

এই আয়াতটি Maani-র ৬টি বিষয়ভিত্তিক স্টাডি গাইডে আলোচিত হয়েছে (গাইডগুলো ইংরেজিতে)।

কুরআনের সব বিষয় দেখুন

আয়াতটি নিয়ে চিন্তা করুন

Maani-তে আয়াতটি পাঁচটি লেন্সে ভাবুন: এর শব্দচয়ন, প্রেক্ষাপট, আপনার জীবনে এর অর্থ, কুরআনের অন্য আয়াতের সঙ্গে সংযোগ এবং এর শিক্ষা, ক্লাসিক তাফসীরের ভিত্তিতে।

Maani-তে এই আয়াত নিয়ে চিন্তা করুন